নবম শ্রেণির বাংলা প্রথম পত্রের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর
৯। যে-কোনো দশটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
(ক) আলী ইবনে আব্বাস কেন দামেস্কের এক স্থানীয় সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন?(খ) 'তাহা দেখিয়া আমি বিস্ময়াপন্ন হইলাম'- কেন? ব্যাখ্যা কর।
(গ) সাধারণ বালকবালিকারা সুভাকে একপ্রকার ভয় করতো কেন?
(ঘ) বাণীকণ্ঠ তার ছোটো মেয়ের নাম সুভাষিণী রেখেছিল কেন?
(ঙ) 'যে জাতির জ্ঞানের ভান্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী'- বাক্যটি ব্যাখ্যা কর।
(চ) 'লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয়'- বুঝিয়ে লেখ।
(ছ) 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা পাস বিক্রয় বলতে কী বুঝিয়েছেন?
(জ) ভারতবর্ষ ও বাঙালিকে রোকেয়া কীভাবে তুলনা করেছেন?
(ঝ) 'ওস্তাদে প্রণাম করোঁ পিতা হন্তে বাড়'- কেন?
(ঞ) 'বন্দনা' কবিতা রচনার প্রেক্ষাপট কী? ব্যাখ্যা কর।
(ট) 'কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে' চরণে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
(ঠ) 'ভ্রান্তির ছলনে'- বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
(ড) এ পৃথিবীতে কবি অমর আলয় রচনা করতে চান কেন?
(চ) 'মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে'- চরণটির মর্মার্থ উদ্ধার কর।
(ণ) 'সবচেয়ে মোর শ্রেষ্ঠ যে ধন জানি তাহা আমি জানি।'-ব্যাখ্যা কর।
দশটি প্রশ্নের উত্তর 👇👇
(ক)আলী ইবনে আব্বাস দামেস্কের এক স্থানীয় সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কারণ তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থায় ক্লান্ত ও আহত ছিলেন। আশ্রয় ও সেবা পাওয়ার আশায় তিনি সেখানে অবস্থান করেন।
(খ)
'তাহা দেখিয়া আমি বিস্ময়াপন্ন হইলাম' — লেখক বা বর্ণনাকারী যখন কোনো অপ্রত্যাশিত বা বিস্ময়কর দৃশ্য বা আচরণ লক্ষ্য করেন, তখন এই কথা বলেন। এটি তার বিস্ময় ও মুগ্ধতা প্রকাশ করে।
(গ)
সাধারণ বালকবালিকারা সুভাকে ভয় করত, কারণ সে ছিল জ্ঞানী, বিচক্ষণ এবং দৃঢ়চেতা। তার ব্যক্তিত্বে একটা গাম্ভীর্য ছিল যা শিশুদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করত।
(ঘ)
বাণীকণ্ঠ তার ছোটো মেয়ের নাম সুভাষিণী রেখেছিলেন, কারণ তিনি চেয়েছিলেন তার মেয়ে যেন মিষ্টভাষিণী হয়, অর্থাৎ সুন্দরভাবে কথা বলতে শেখে ও মন জয় করতে পারে।
(ঙ)
‘যে জাতির জ্ঞানের ভান্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী’ — এই বাক্যে বোঝানো হয়েছে, যে জাতি শিক্ষায় পিছিয়ে, তাদের অর্থ-সম্পদ থাকলেও তা টিকবে না। জ্ঞানহীন জাতি উন্নতি করতে পারে না।
(চ)
‘লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয়’ — লাইব্রেরি যেমন মানুষের মনের রোগ সারায়, তেমনি হাসপাতাল শারীরিক রোগ সারায়। তাই জ্ঞানের আলো ছড়ানোর জন্য লাইব্রেরিও ততটাই প্রয়োজনীয়।
(ছ)
‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে ‘পাস বিক্রয়’ বলতে লেখিকা বোঝাতে চেয়েছেন, পরীক্ষায় পাশ করার জন্য কিছু ছাত্র টাকা দিয়ে পাস নম্বর কিনে নেয়, যা এক প্রকার দুর্নীতি ও শিক্ষার অবমূল্যায়ন।
(জ)
রোকেয়া ভারতবর্ষ ও বাঙালিকে তুলনা করেছেন একজন অলস, পরাধীন নারীর সঙ্গে, যিনি নিজের স্বাধীনতা ও সম্ভাবনা উপলব্ধি করতে অক্ষম। এতে তিনি বাঙালির আত্মসম্মানহীন অবস্থার চিত্র তুলে ধরেন।
(ঝ)
‘ওস্তাদে প্রণাম করোঁ পিতা হন্তে বাড়’ — কারণ ওস্তাদ বা গুরু আমাদের জ্ঞান ও সংস্কারের দিশা দেখান, যা জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাকে পিতার থেকেও শ্রদ্ধা করা উচিত।
(ঞ)
‘বন্দনা’ কবিতা রচনার প্রেক্ষাপট হলো, কবির নিজের জাতি ও সংস্কৃতিকে প্রণাম জানানো। তিনি নিজের সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে দেশমাতৃকার বন্দনা করেছেন।
(ট)
‘কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে’ — কবি বোঝাতে চেয়েছেন, তার ভালোবাসা ও স্নেহের চাহিদা পূরণ হবে কার দ্বারা? অর্থাৎ, তার ভালোবাসা কে গ্রহণ করবে — এই অনিশ্চয়তা প্রকাশ পেয়েছে।
(ঠ)
‘ভ্রান্তির ছলনে’ বলতে কবি বুঝিয়েছেন, মায়া বা বিভ্রমের কারণে মানুষ সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে না। জীবনের অনেক বিষয় আমরা ভুলভাবে দেখি ও মূল্যায়ন করি।
(ড)
কবি পৃথিবীতে অমর আলয় রচনা করতে চান, কারণ তিনি চান, তার কর্ম ও সৃষ্টির মাধ্যমে পৃথিবীতে স্থায়ী প্রভাব রাখতে। এভাবে তিনি মৃত্যুর পরেও স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান।
(চ)
‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে’ — এই চরণে কবি জীবনের প্রতি ভালোবাসা ও আকর্ষণ প্রকাশ করেছেন। তিনি এতটাই মুগ্ধ এ পৃথিবীর সৌন্দর্যে যে, তা ছেড়ে যেতে চান না।
(ণ)
‘সবচেয়ে মোর শ্রেষ্ঠ যে ধন জানি তাহা আমি জানি।’ — এই বাক্যে কবি বোঝাতে চেয়েছেন, তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস বা নিজের আত্মসচেতনতা — যা তিনি নিজেই উপলব্ধি করেছেন।

0 Comments